সুমিতা দে

সুমিতা দে (সুমা)

সাহিত্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন

জন্ম ১৯৮৪ সালের প্রথম দিনে, চুয়াডাঙ্গার সীমানায় অবস্থিত দর্শনায়। বাবা স্বপন কুমার দে ও মা অনিমা কুমার দে’র স্নেহধন্য প্রথম সন্তান তিনি। শৈশব-কৈশোর কেটেছে দর্শনার প্রাণবন্ত পরিবেশে, এক ভাই ও এক বোনের সান্নিধ্যে। বর্তমানে বৈবাহিক সূত্রে তিনি বসবাস করছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মালোপাড়ায়।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৯৯৯ সালে তিনি এসএসসি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চশিক্ষার পথে ফেরেন এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি ও ২০১৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি চুয়াডাঙ্গায় মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম–এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিশু শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখে চলেছেন।

২০১৫ সালে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে— পূর্বকথন, ক্ষুদিরাম কথা, নীল সিন্দুরিয়া, রিক্তের বেদন ইত্যাদি। সংগঠনে এর আগে তিনি নৃত্য ও সঙ্গীত বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। সাংস্কৃতিক চর্চায় তার অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ‘পরিবেশ থিয়েটার’-এর সনদ।

সাংস্কৃতিক জীবনের বাইরেও সুমিতা দে একজন নান্দনিক রুচিসম্পন্ন মানুষ। প্রিয় রং নীল, প্রিয় ঋতু বসন্ত, আর প্রিয় খাবার মিষ্টি। বইয়ের প্রতি অনুরাগ তাকে টেনে নেয় সমরেশ মজুমদারের কালপুরুষ–এর পাতায়, আর গানের আসরে তার হৃদয় বাঁধা পড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত “সখি ভাবনা কাহারে বলে”–তে। সিনেমার পর্দায় তার প্রিয় মুখ উত্তম কুমার ও শর্মিলা ঠাকুর, প্রিয় চলচ্চিত্র আনন্দ আশ্রম। অবসরে তিনি ভালোবাসেন গান শুনতে ও লেখালেখি করতে। ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে প্রিয় স্থান—তার জন্মভূমি দর্শনা।

নিজের জীবনদর্শনকে তিনি সংক্ষেপে প্রকাশ করেন এই নীতিবাক্যে—
“এসো হাতে হাত ধরি, মানবিক পৃথিবী গড়ি।”

তিনটি শব্দে নিজেকে তিনি দেখেন— সৎ, প্রতিবাদী, পরপোকারী। আর তার সেরা গুণ হলো সততা