সাধারণ সম্পাদকের বাণী

অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন, চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বাংলা ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সুগভীর ঐতিহ্য আমাদের আত্ম পরিচয়ের মূল ভিত্তি। এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করে, বাঙালি সংস্কৃতির প্রগতিশীল বিকাশের অভিপ্রায় নিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত শহর চুয়াডাঙ্গাতে ১৯৮৬ সালে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনযাত্রা শুরু করেছিল। আজ আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি—সংগঠনটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি সৃষ্টিশীল চেতনার আন্দোলন হয়ে উঠেছে।আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সমাজে বিভক্তির ভাষা জোরালো হতে চাইছে। এমন সময়ে অরিন্দম আমাদের শেখায়— ভাষার আগে মানুষের ভাষা, পরিচয়ের আগে হৃদয়ের সংযোগ। অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন সেই বিশ্বাসেই এগিয়ে চলে। আমি মনে করি, থিয়েটার মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং ভিন্নতার মধ্যে মিল খুঁজে নেয়। থিয়েটার আমাদের শেখায়—ভিন্নতা মানেই বিভাজন নয়; ভিন্নতা থেকেই জন্ম নেয় সম্প্রীতি, সংহতি ও মানবতা। আমাদের স্বপ্ন— একটি এমন সমাজ গঠন করা, যেখানে সংস্কৃতি হবে মানুষের ভেতরের বিভাজন ঘোচানোর এক যৌথ প্রয়াস। অরিন্দম, চুয়াডাঙ্গা সাংস্কৃতিক চর্চাশুধু বিনোদনের নয়— এটিকে প্রতিবাদের, প্রতিরোধের এবং প্রেরণার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি হয়— সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য, নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আমরা নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাই, দেখাতে শিখি। আমাদের নাটকগুলোতে আমরা তুলে ধরি মানুষের মুক্তির কথা, শ্রেণি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে এক হয়ে বাঁচার কথা। আমরা বিশ্বাসকরি, মঞ্চের আলো— আঁধারির মধ্যে দিয়ে সমাজের অন্ধকার দূর করা সম্ভব।

এরকম একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আমার কাছে শুধু একটি পদ নয় বা কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্তব্য নয় —এ এক অন্তরের দায়, নৈতিক দায়বদ্ধতা। এই সংগঠনের প্রতিটি নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তির মধ্যে আমি দেখি মানুষের আবেগ, ইতিহাসের বেদনা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আমাদের সংগঠনের কর্মকান্ড শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক বা নাট্যচর্চা নয়— এটি একটি মননের আন্দোলন, একটি প্রতিবাদের ভাষা, একটি বিকল্প সমাজ নির্মাণের কল্পনা। সংগীত, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানা শিল্পচর্চার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সাথে যুক্ত রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। সংগীত, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রকলার মতো সৃজনশীল মাধ্যমগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা মানুষের অনুভব, চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

আমাদের একটি নতুন অথচ পুরাতন উদ্যোগ, এই ওয়েবসাইটটি আমাদের সকল প্রয়াসের এক ডিজিটাল প্রকাশ। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের কার্যক্রম, অনুষ্ঠানসূচি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই। এই ওয়েবসাইট আমাদের সেই চেষ্টারই একটি ডিজিটাল বিস্তার—যেখান থেকে আপনি আমাদের কর্মকাণ্ড, স্বপ্ন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজেও অংশ নিতে পারবেন আমাদের সাংস্কৃতিক যাত্রায়। এটি শুধুমাত্র তথ্যের ভাণ্ডার নয় বরং একটি মঞ্চ—যেখানে সকল সাংস্কৃতিক যোদ্ধার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাই। আশা করি, আপনারা নিয়মিত আমাদের কার্যক্রমের আপডেট দেখবেন, মতামত জানাবেন এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।

আমরা চাই, “অরিন্দম” শুধু একটি সংগঠন হিসেবে নয়, বরং একটি চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠুক—যেখানে সবাই নিজেকে খুঁজে পান, প্রকাশের সুযোগ পান।আমরা চাই, সংস্কৃতি হবে সকলের জন্য— কেবল মঞ্চে নয়, হৃদয়ে। সকলের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে এমন এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যেখানে সত্য, সৌন্দর্য ও সংহতি—এই তিনটি হবে আমাদের পথচলার মূলমন্ত্র এবং সৃষ্টি হবে এক প্রাণবন্ত, মানবিক ও সৃষ্টিশীল সমাজ। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও উৎসাহ আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা।

হিরন উর-রশীদ শান্ত,
সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম,
চুয়াডাঙ্গা